Skip to main content

একটু লজ্জায় সারাজীবনের ইবাদত বরবাদ হতে পারে_!


একটু লজ্জায় সারাজীবনের ইবাদত বরবাদ হতে পারে!–

➤ যে সব কারণে গোসল ফরজ হয় :

◉ ১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।

◉ ২. সহবাসে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।

◉ ৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।

➤ গোসলের ফরজ তিনটি :

◉ ১. গড়গড়াসহ কুলি করা, যাতে পানি গলার হাড় পর্যন্ত পৌছে।

◉ ২. হাতে পানি নিয়ে নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো।

◉ ৩. সমস্ত শরীর উত্তম রুপে ধৌত করা।

➤ ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম :

গোসলের নিয়ত করা, বিসমিল্লাহ বলে গোসল শুরু করা। 

দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধোওয়া। (বুখারী–২৪৮)

পানি ঢেলে বাম হাত দিয়ে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা (বুখারী–২৫৭)। 

বাম হাতটি ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নেওয়া। (বুখারী–২৬৬) নামাজের ওজুর মতো ভালোভাবে পূর্ণরূপে ওজু করা। এক্ষেত্রে শুধু পা দুটো বাকি রাখলেও চলবে, যা গোসলের শেষে ধুয়ে ফেলতে হবে। (বুখারী–২৫৭, ২৫৯, ২৬৫)

মাথায় পানি ঢেলে চুলের গোড়া ভালোভাবে আঙ্গুল দিয়ে ভিজানো। (বুখারী–২৫৮)

পুরো শরীরে পানি ঢালা; প্রথমে ডানে ৩বার,

পরে বামে ৩বার, শেষে মাথার উপর ৩ বার। (বুখারী–১৬৮)। 

যেন শরীরের কোন অংশ বা কোন লোমও শুকনো না থাকে।পুরুষের দাঁড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় অবশ্যই পানি ঢালতে হবে। গোসলের জায়গা থেকে একটু সরে গিয়ে দুই পা ধোওয়া।(বুখারী–২৫৭)।

➤ এটাই হচ্ছে গোসলের পরিপূর্ণ পদ্ধতি। উল্লেখ্য, এইভাবে গোসল করলে এর পরে নামায পড়তে চাইলে আলাদা করে ওযু করতে হবেনা, যদি না, গোসল করার সময় ওযু ভঙ্গের কোনো কারণ ঘটে থাকে।

➤ গোসলের পরে কাপড় চেঞ্জ করলে বা হাঁটুর উপরে কাপড় উঠে গেলে ওযু ভাংবেনা, এটা ওযু ভঙ্গের কারণ না।

 আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে ফরয গোসল করার ও এ জ্ঞান সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

Comments

Popular posts from this blog

আমরা এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করব, হ্যালোইন-এর ইতিহাস এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তা পালন করার বিধান সম্পর্কে।

  হ্যালোইন উৎসব-এর অন্ধকার ইতিহাস এবং তা হারাম হওয়ার দশ কারণ: প্রতি বছর পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ৩১ অক্টোবর খুব উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হচ্ছে হ্যালোইন উৎসব। এটিকে ‘ভূত উৎসব’ও বলা হয়। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে তা মুসলিম বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমনটি ছড়িয়ে পড়েছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে, থার্টি ফাস্ট নাইট, খৃষ্টানদের ক্রিসমাস ডে (বড় দিন), হিন্দুদের দেওয়ালী বা হোলি উৎসব, বৌদ্ধদের সাকরাইন বা ঘুড়ি উৎসব ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন অপসংস্কৃতি ও হিন্দুয়ানী পূজা উৎসবে লিপ্ত হচ্ছে অজ্ঞ মুসলিম সমাজ। আল্লাহ মুসলিমদেরকে হেফাজত করুন। আমিন।  যাহোক, আমরা এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করব, হ্যালোইন-এর ইতিহাস এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তা পালন করার বিধান সম্পর্কে। وبالله التوفيق ❑  হ্যালোইন উৎসবের অন্ধকার ইতিহাস:  "হ্যালোইন" বা "হ্যালোউইন" শব্দের অর্থ "শোধিত সন্ধ্যা" বা "পবিত্র সন্ধ্যা"। মূলত: এই উৎসবটি এক অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কার এবং ইসলাম বিরোধী ভ্রান্ত বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত: গবেষকদের মতে, হ্যালোইনের রাত নিয়ে অনেক ধরনের মিথ বা পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত র...

▌কবরের আযাবের ভয়াবহতা ও সালাত পরিত্যাগকারীর দাফনের নিয়ম

 ▌কবরের আযাবের ভয়াবহতা ও সালাত পরিত্যাগকারীর দাফনের নিয়ম সৌদি আরবের সাবেক গ্র‍্যান্ড মুফতি, শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহু তা'আলা) ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ প্রশ্নকর্তাঃ ইয়া শাইখ, [এই প্রশ্নটি] এই বিষয়ে যে একজন ইন্তেকাল করেছেন, যখন তার দেহকে গোসলের জন্য রাখা হলো, তার মাথা কিবলা থেকে সরে গেলো, এবং যতক্ষণ না তারা তাকে গোসল দেয়া শেষ করলো[সেটা কিবলার বিপরীতেই থাকলো]। একই জিনিস তাকে কবরে দাফন করার সময়েও ঘটেছে, আমি নিজে এই ঘটনা দেখেছি। আমি তার পরিবারকে জিজ্ঞেস করলাম কেন এমন ঘটছে? তারা উত্তর দিলো, 'শুধু আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা চাও।' আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম যে কেন এমন ঘটছে। তারা বললো, ' সে সালাত আদায় করতো না, এবং প্রায়ই মদ্যপান করতো।' শাইখ বিন বায ( رَحِمَهُ ٱللّٰهُ‎): এটি খুব ভয়াবহ ব্যাপার। এটি বহু মানুষের সাথে হয়েছে।  প্রশ্নকর্তাঃ ইয়া শাইখ, আমরা কি দুয়া করতে পারি যে আল্লাহ যাতে তাকে ক্ষমা করে দেন? বিন বাযঃ যে সালাত আদায় করেনা-তার গোসল দেয়া ও জানাজার সালাত পড়ানো উচিৎ নয়! অনেকেই কবরের [আযাবের] নিদর্শন দেখেছেন। তারা হয়তো [তারা প...

যে-সব ছোটো আমল পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়

 ▌যে-সব ছোটো আমল পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়💕 _______________________________________________ . ০১. পরিপূর্ণভাবে ওযু করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে-ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে ওযু করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। ফলে তার সালাত এবং মাসজিদে গমন, নফল হিসেবে বিবেচিত হয়।" . (সহীহ মুসলিম, হা. ২২৯) . . ০২. ওযু-পরবর্তী দুই রাকা‘আত সালাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে-ব্যক্তি অতি উত্তমভাবে ওযু করে এমনভাবে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে, যাতে দুনিয়াবি কোনো চিন্তা আসে না, তাহলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" . ( সহীহুল বুখারী, হা.৬৪৩৩ ; সহীহ মুসলিম, হা.২২৬ ) . . ০৩. রুকু থেকে দাঁড়িয়ে দু‘আ পাঠ। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদা’ বলে, তখন তোমরা ‘আল্লাহম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। কেননা যার বলা ফেরেশতাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" . (তিরমিযি, হা. ২৬৭; সহীহ) . . ০৪. সূরা ফাতিহা শেষে 'আমীন' বলা। রাসূল সাল্লাল্লা...